রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
তৃতীয় ধাপে ১১৭ উপজেলায় ভোট শুরু চন্দনাইশে ভোটকেন্দ্রে গুলি, পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পেলে ক্লাসে ফিরবেন শিক্ষকরা শাবির ছাত্র হলে আগুন, প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ জেলা মহিলা আ.লীগ সভানেত্রী রুবি ফাতেমা অসুস্থ, ঢাকায় প্রেরণ আগুন ছোট আতঙ্ক বড় কাদের সম্পূর্ণ সুস্থ, কমানো হচ্ছে ঘুমের ওষুধ দেশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান হলেন যারা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মানুষের ক্ষতি যেন না হয় : প্রধানমন্ত্রী বিচারপতির স্ত্রীর কাছে ঘুষ দাবি, পুলিশ কর্মকর্তার জেল বিরামপুরে একই রাতে ৭ স্থানে দুর্বৃত্তদের আগুন যে উপকার পাওয়া যায় সপ্তাহে ৬ মিনিট লাফালে দোকানের তালা ভেঙ্গে  শিবগঞ্জে ৪ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি দুই হাজার গাড়ি বহনকারী জাহাজ মহাসাগরে ডুবে গেছে ডিজিটাল কাম লইলিছইন ভাইসাব: আশফাককে ডালিম




সিলেটে আধুনিকতার ছোঁয়ায় কোণঠাসা কদমা-তিল্লির কারিগরেরা

সিলেটে আধুনিকতার ছোঁয়ায় কোণঠাসা কদমা-তিল্লির কারিগরেরা

বাঙ্গালীর বাংলাবর্ষ পঞ্জিকা অনুযায়ী মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) পৌষ সংক্রান্তি। পিঠা-পুলির উৎসবের পাশাপাশি দিনটিকে ঘিরে চলবে নানা আচার অনুষ্ঠান। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে গ্রাম-গঞ্জে জমে উঠবে ছোট-বড় বিভিন্ন মেলা।

পৌষ-সংক্রান্তিতে হিন্দু ধর্মালম্বীরা নানান পূজা পার্বন এর আয়োজন করে থাকে। পূজা পার্বনে দেব-দেবীর নৈবেদ্য হিসেবে বিভিন্ন মিস্টি ও ফলমূল উৎসর্গ করে থাকেন। এ উপলক্ষে জেলা শহরের হাট বাজাগুলোতে মিস্টির ও পসরার দোকানগুলোতে বসেছে কদমা ও তিল্লি বিক্রির ধুম।

আধুনিক মেশিনে তৈরী তিল্লি ও কদমা দামে সস্তা হওয়ায় খুচরা বাজারে বিপাকে পড়েছেন হাতে তৈরী তিল্লি ও কদমা কাড়িগরেরা। পৌষ সংক্রান্তির অযুহাতে ফলের দোকানগুলোতে বিভিন্ন ফলমূল এর দাম বেশী হাকাচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

শহরের চৌধুরী বাজার নারিকেল হাটা, ফলেরর হাটা, চৌরাস্তা মোড়ে ঘুরে জানা যায়, পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে বিভিন্ন ফলের দোকানগুলোতে চড়া দমে ফলমূল বিক্রী করছে বিক্রেতারা। কিছুদিন পূর্বেও মাঝারি সাইজের নারিকেল হালিতে ৫০-৬০ টাকা দামে বিক্রী করতে দেখে গেলেও বর্তমান সময়ে প্রায় একই সাইজের নারিকেলের দাম হাকানো হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। আপেল কেজিতে ৮০-৯০ টাকায় পাওয়া যেত একই আপেল এর দাম ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নাসপাতি কেজিতে ১৬০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়, কমলা কেজিতে ১০০ টাকার স্থানে ১২০ টাকা দরে, কেনু (কমলা জাতীয়) কেজিতে ৬০-৭০ টাকায় সেখানে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিক্রেতারা বলছে, পৌষ সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে নয় শীতের শেষ মৌসুম বিধায় ফলের আমদানি কম তাই দাম বেশি। কিছুদিন পর দাম আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, পৌষ-সংক্রান্তিতে কৃর্ত্তন ও পূজা পার্বনের উপলক্ষে মিস্টি স্বাদের খাবারের পণ্য যেমন বাতাসা, নকুল, কদমা, তিল্লিসহ হরেক নামের এবং রকমের খাবারের দেখা মিলছে শহরের চৌধুরী বাজারের মিস্টির দোকানগুলোতে।

জানা যায়, বৃটিশ আমল থেকে খোয়াই নদীর তীরবর্তী পুরান বাজার এলাকায় বসবাসরত প্রায় দুইশ’ পরিবার মুড়ি, নাড়–ও চানাচুর তৈরী করে আসছে। আর শীতের সময়ে ব্যস্ত সময় পার করতেন কদমা ও তিল্লি তৈরীতে। এসব পণ্য তৈরীতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে চিনি, ছানার জল ও ময়দা। প্রথমে উত্তপ্ত উনুনে কড়াইয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনি মিশ্রিত জলে জ্বাল দেয়া হয়। ঘন্টা দুয়েক পর চিনির সিরাতে ছানার জল মিশিয়ে তা বিভিন্ন লোহার ছাঁচে ঢালা হয়। পরবর্তীতে অর্ধ গলিত পদার্থটি ঠান্ডা করে লোহার রডে রেখে তা দড়ির ন্যায় টানা হয়। আঠালো ও নরম পদার্থটি একপর্যায়ে সাদা রং চকচকে ধারন করে। সেখান থেকে মাঝারি সাইজের (বাইন) টুকুরো করে ময়দায় যুক্ত করে সুতো দিয়ে কাড়িগরেরা নিপুন হাতে খন্ড খন্ড করে তৈরী করেন কদমা ও তিল্লি।

পুরোপুরিভাবে শক্ত হলেই খাদ্য হিসেবে পরিণত হয়ে। এসব মিশ্রন নরম ও আঠালো থাকা অবস্থায় কাড়িগরেরা শৈল্পিক ছোয়ায় দক্ষতার সাথে তৈরী করেন নানা ডিজাইনের হাঁস, পাখি, পুতুলসহ বিভিন্ন আকৃতির। বড় আকৃতির কদমা নামে পরিচিত আর ছোট ছোট বল আকৃতির সাইজের তিল্লি নামের হয়।

প্রতি ১ কেজি চিনিতে ১ কেজি তিল্লি বা কদমা তৈরী করা যায়। সেক্ষেত্রে পানি, ময়দা ও দুধ-ছানার সাথে যুক্ত হচ্ছে দৈহিক শ্রম। খুচরা বাজারে মেশিনে তৈরী কদমা ও তিল্লি দামে সস্তা হওয়ায় বেশী দাম দিয়ে ক্রেতারা হাতে তৈরী তিল্লি ও কদমা নিতে চায় না। বর্তমানে প্রতি কেজি তিল্লি ও কদমা বিক্রি হচ্ছে ৭০-১০০ টাকা দরে।

এদিকে, অনেকে মনে করছেন, লাভের মাত্রা একবারেই কম থাকায় অচিরেই কাড়িগরদের হাতে তৈরী সুস্বাদু খাদ্য পন্য হারিয়েও যেতে পারে।

কাড়িগর রথীন্দ্র কুড়ি জানায়, ‘বর্তমান সময়ের শ্রমঅনুযায়ী পারিশ্রমিক পাচ্ছি না। এ কাজটিতে পরিবারের সকল সদস্যদের সমৃক্ততার রক্ত জল করে কোনমতে বেঁচে আছি।’

অন্যকারিগর সুব্রত কুড়ি বলেন- ‘আধুনীক মেশিনের চেয়ে হাতে তৈরী কদমা-তিল্লির স্বাদ অন্যরখম। কিন্তু মেশিনের তৈরী পণ্যে বাজার ভরে যাওয়ায় আমরা কারিগরের একদম কোণঠাসা হয়ে পড়েছি।’

image_print

সংবাদ শেয়ার করুন

মন্তব্য বন্ধ আছে।




ক্যালেন্ডার

মার্চ 2019
সোম বুধ বৃহ. শু. শনি রবি
« ফেব্রু.    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031



© All rights reserved © 2017 Uttarancholsylhet.com
 
Design & Developed BY TC Computer