সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ১০:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
সড়ক নয় যেন জলাধার! শ্রীনগরে আজ খুলছে ১৯০ স্কুল সাত সপ্তাহ পর বৈঠকে মন্ত্রিসভা কাশ্মীরের আজাদি দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ মাদরাসার ‘প্রবলেমেটিক’ ম্যানেজিং কমিটি চিহ্নিত করার কাজ শুরু রাতে শিক্ষার্থীদের আড্ডা বন্ধে পুলিশের অভিযান উপবৃত্তি পাবে সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষার্থীরাও শোক দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ ১১টি ভারতীয় গরু আটক জৈন্তাপুরে বেড়াতে এসে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন প্রবাসী নারী গোয়াইনঘাট থানায় নবাগত ওসির যোগদান চাঁদ দেখা গেছে, ১২ আগস্ট ঈদ মদ খেয়ে শ্রেণিকক্ষেই ঘুমাচ্ছেন শিক্ষক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মাসব্যাপী রচনা প্রতিযোগিতা শুরু আগামীকাল হঠাৎ ৪ স্কুলে শিক্ষা কর্মকর্তা, অনুপস্থিত প্রধান শিক্ষকরা




খেলাপি ঋণের রেকর্ড

খেলাপি ঋণের রেকর্ড



চলতি বছরের মার্চে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ব্যাংক যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, প্রথম প্রান্তিকে (জানু-মার্চ) ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকাকে শ্রেণিকৃত ঋণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রান্তিক হিসেবে এমন বৃদ্ধি আগে হয়নি। এটিও খেলাপি ঋণ সৃষ্টি করার েেত্র নতুন রেকর্ড।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এখন মোট ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ খেলাপি ঋণ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর ছিল ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং ২০১৮ সালের মার্চে শতাংশ হিসাবে তা ছিল ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘খেলাপি ঋণ বাড়ার পুরো দায়ভার সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিতে হবে।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প থেকে ঋণখেলাপিদের একগুচ্ছ সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয় সরকারের প থেকে। ফলে অনেক ঋণখেলাপি টাকা পরিশোধ না করে অপোয় রয়েছে সেই সুবিধা নেয়ার আশায়।
সেই ঘোষণা শেষ পর্যন্ত সত্য হয় ১৬ মে। সেদিন বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণখেলাপিদের জন্য একগুচ্ছ বিশেষ সুবিধা প্রকাশ করে। নতুন নীতি অনুযায়ী, ঋণখেলাপিরা তাদের ঋণ বর্তমানের ১০ থেকে ৫০ শতাংশ হারের পরিবর্তে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবে। যদিও বা শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ঘোষণার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। এই স্থগিতাদেশ এ মাসেই শেষের দিকে শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই খেলাপি গ্রাহকরা এখনো মনে করছেন যে, তাদের সেই সুবিধাটি পুনর্বহাল থাকবে। অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক হস্তেেপ বিতরণ করা ঋণ আর আদায় হচ্ছে না। ফলে বেড়েই চলছে খেলাপি ঋণ। চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। খেলাপি ঋণের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা মার্চ ’১৯ প্রান্তিকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামাল দায়িত্ব নেয়ার পরই ঘোষণা দেন খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়বে না। এরপর থেকে খেলাপি ঋণ কমাতে নানা ফাঁকফোকর খুঁজতে থাকে সরকার। কিন্তু তারপরও কমেনি খেলাপি ঋণ, উল্টো বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর ’১৮ শেষে ছিল ৯৩ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা।বিশ্লেষকরা বলছেন, সুশাসনের অভাব, রাজনৈতিক হস্তপে, অব্যবস্থাপনা ও নানা অনিয়মে দেয়া ঋণ আর আদায় হচ্ছে না। অন্যদিকে বিশেষ সুবিধায় পুনর্গঠন করা ঋণ আবার খেলাপি হচ্ছে। ফলে লাগামহীনভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। এতে করে জনগণের আমানত গ্রহণ করলেও তার সুরা দিতে পারছে না ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চ মাস শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল) ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২০ শতাংশ। এই সময় ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণ দাঁড়ায় এক লাখ ৬৭ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ছিল ৪৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। মার্চ শেষে বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আলোচিত সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে সাত লাখ পাঁচ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকাই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। এছাড়া বিদেশি ৯ ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে ৩৬ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ দুই হাজার ২৫৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। নিয়ম অনুযায়ী, খেলাপি ঋণ তিনটি শ্রেণিতে বিভাজন করা হয়। একটি নিম্নমান, সন্দেহজনক এবং মন্দ বা তিজনক মান। মন্দ বা তিজনক মানের ঋণ আদায় হবে না বলে ধারণা করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে তার বেশিরভাগই আমানতকারীদের অর্থ। আমানতকারীদের অর্থ যেন কোনো প্রকার ঝুঁকির মুখে না পড়ে সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। এর একটি হলো প্রভিশন সংরণ। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণিকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। এছাড়া নিম্নমান বা সাব স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে রাখতে হয় ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা কুঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরণ করতে হয়। ব্যাংকের আয় খাত থেকে অর্থ এনে এ প্রভিশন সংরণ করা হয়। এতে করে কমছে মুনাফা। ফলে খেলাপির কারণে মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। আগের বছর পরিচালন মুনাফা হয় ২৪ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। তবে ব্যাংক খাতে পরিচালন মুনাফা বাড়লেও খেলাপির বিপরীতে প্রভিশন রাখতে গিয়ে কমেছে নিট মুনাফা। ২০১৮ সালে নিট মুনাফা হয়েছে চার হাজার ৪০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় সাড়ে ৫৭ শতাংশ কম। ২০১৭ সালে নিট মুনাফা ছিল ৯ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। আর আগে ২০১৬ সালে নিট মুনাফা হয় ৮ হাজার ৩১০ কোটি টাকা এবং ২০১৫ সালে ব্যাংকগুলোর মুনাফা হয় ৭ হাজার ৯২০ কোটি টাকা।

image_print

সংবাদ শেয়ার করুন



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।




ক্যালেন্ডার

আগস্ট 2019
সোম বুধ বৃহ. শু. শনি রবি
« জুলাই    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  



© All rights reserved © 2017 Uttarancholsylhet.com
 
Design & Developed BY TC Computer