বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বিনা খরচে জাপান যেতে যা লাগবে অবশেষে বসল পদ্মা সেতুর ১৫তম স্প্যান কানাডায় আবারও জয়ী জাস্টিন ট্রুডো ভোলায় বিপ্লবের ২ স্বজনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ আবরার হত্যা মামলায় সাদাতের জবানবন্দি ২৯ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরেছে, জানেই না বাংলাদেশ দেশের ক্রিকেট ধ্বংস করতেই এই ধর্মঘট : পাপন ওয়ার্কার্স পার্টি ছাড়লেন বিমল বিশ্বাস অবশেষে অভিনেতা সিদ্দিককে ডিভোর্স দিলেন মিম ১৭ বছর পর দেশে ফেরার পথে কুয়েত বিমানবন্দরে প্রবাসীর মৃত্যু খালেরমুখ-তালতলা বাজার সড়কে দুই উপজেলাবাসীর দুর্ভোগ কারাগার থেকে হাসপাতালে নওয়াজ শরীফ ১ মিনিটেই নগদ অ্যাকাউন্ট’ সেবা উদ্বোধন করলেন জয় গাড়ির নকশা পরিবর্তন করে রাস্তায় নামালে কঠোর ব্যবস্থা ভোলা পুলিশ সুপারের ফেসবুক আইডি হ্যাক




এক স্ত্রীকে নিয়ে দুই স্বামীর টানাটানি

এক স্ত্রীকে নিয়ে দুই স্বামীর টানাটানি



বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পঁচিশ বছর দাম্পত্য জীবন কাটানো নিজের স্ত্রী’কে নিয়ে অন্য আরেকজন অবৈধভাবে সংসার করায় স্ত্রী’কে ফিরে পেতে প্রশাসনের কাছে স্বামীর লিখিত অভিযোগ দায়ের।

জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের যবসেন গ্রামের এনায়েত পাইকের দাম্পত্য জীবনে এই অশান্তি বিরাজ করছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও থানা প্রশাসনের কাছে বিচারের দাবি জানিয়ে স্ত্রী’কে ফিরে পেতে ভুক্তভোগী এনায়েত পাইকের (৭০) দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বিশ বছর আগে পার্শ্ববর্তী কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি গ্রামের ছোমেদ শেখ এর মেয়ে মেনোকার সাথে তার বিয়ে হয়।

এনায়েত পাইক জানান, তার প্রথম স্ত্রী মারা যাবার দুই বছর পর স্বামী পরিত্যাক্তা মেনোকাকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক মেয়ে, এক ছেলে রয়েছে। মেয়ে বিয়ে দেয়ার পরে ৮/১০ বছরের ছেলে নিয়ে তাকে কিছু না বলে গত তিন বছর আগে তার স্ত্রী মেনোকা একই উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের নগরবাড়ি গ্রামের মৃত তালেব খানের ছেলে বেকারী ব্যবসায়ি হাকিম খান (৫৫)এর সাথে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছে।

এনায়েত পাইক অভিযোগে আরও বলেন, তার স্ত্রী মেনোকা তাকে কোন রকম তালাক না দিয়ে অন্যজনের সাথে অবৈধভাবে বসবাস করে দেশের প্রচলিত আইন ও শরীয়া আইন বিরোধী কাজ করছে। হাকিম খানের সাথে বসবাস করলেও বাকাল ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি চাল গ্রহনের সুবিধাভোগীর তালিকায়ও মেনোকার স্বামীর নাম এনায়েত পাইক লেখা রয়েছে।

এনায়েত পাইক অভিযোগের কপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আফজাল হোসেন, বাকাল ইউপি চেয়ারম্যোন বিপুল দাস, গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম টিটুকেও প্রদান করেছেন।

নগড়বাড়ি গ্রামের শাহনুর হাওলাদার ধলা, স্থানীয় মেম্বর মশিউর সরদারের উপস্থিতিতে অভিযোগের ব্যাপারে হাকিম খান ও মেনোকা নিজেদের স্বামী স্ত্রী পরিচয় প্রদান করে জানান, ২০১৬ সালের ২ জুন মেনোকার বাবার বাড়ি কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের বিবাহ রেজিষ্ট্রার কাজী আব্দুস সামাদ খান মেনোকার বাবা ছোমেদ শেখ এর উপস্থিতিতে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করা কাবিনের রেজিষ্ট্রারের সত্যায়িত কপি প্রদর্শন করেন। এসময় হাকিম খানকে বিয়ের আগে একই বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি পূর্বের স্বামী এনায়েত পাইককে মোনোকা তালাক দিয়েছেন বলে জানান। স্থানীয়রা জানান, হাকিম পাইকের এটা চতুর্থ ও মেনোকার তৃতীয় বিয়ে। এনায়েত পাইক কোন তালাকনামা পাননি বলে জানান।

বান্ধাবাড়ি ইউনিয়ন নিকাহ রেজিষ্ট্রার আ. ছামাদ শেখ এর বাড়ি গেলে তার অনুপস্থিতিতে তার ছেলে বর্তমানে ওই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার মো. নাছির উদ্দিন খান তার বাবার মাধ্যমে তালাকনামা ও নিকাহর কাবিননামার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার বাবা ২০১৬ সালে অবসরে যাওয়ায় ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে তিনি সরকারীভাবে বিয়ে রেজিষ্ট্রারের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। উল্লেখিত তারিখে তার বাবার সঙ্গে তিনিও উপস্থিত থেকে উল্লেখিত হাকিম খান ও মেনোকার বিবাহ সম্পন্ন করান।

নিকাহ রেজিস্ট্রার দেখতে চাইলে নাসির খান জানান, তার বাবার আমলের সকল ভলিউম গোপালগঞ্জ জেলা রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে রক্ষিত আছে। গোপালগঞ্জ জেলা রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের রেকর্ড কিপার নাজমা বেগম জানান, উল্লেখিত তারিখে মেনোকা ও হাকিম খানের বিয়ের কোন রেকর্ড রেজিষ্ট্রার বহিতে নেই। বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক কাজী ছামাদ শেখের ছেলে বর্তমান কাজী নাসির উদ্দিনকে জেলা রেজিষ্ট্রারের রেকর্ড কিপার নাজমা বেগমের বক্তব্য “ভলিউমে বিয়ের রেকর্ড না” থাকার কথা জানালে নাসির সময় চেয়ে বলেন, তিনি ভলিউম দেখে কাবিনের কপি পরে দেখাবেন !

উল্লেখ্য, আগৈলঝাড়া উপজেলায় নিকাহ রেজিষ্ট্রারেরা এলাকায় বাল্য বিয়ে পড়াতে অস্বীকৃতি জানালে ওই বাল্য বিয়ের বর-কনের অভিভাবকেরা পাশ্ববর্তি কোটালীপাড়ার বান্ধাবাড়ি এলাকার নিকাহ রেজিষ্ট্রার দিয়ে বাল্য বিয়ে সম্পন্ন করানোর বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি প্রথমে সামাজিকভাবে দেখার দায়িত্ব দেয়া হবে। সমাধান হলে ভালো না হয় আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, অভিযোগের কপি তিনি হাতে পান নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।

আগৈলঝাড়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, এরকম একটি অভিযোগ পেয়ে এসআই জামাল হোসেনকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এসআই জামাল হোসেন জানান, উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। তাদের কথা শুনে, কাগজপত্র দেখে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাকাল ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল দাস জানান, তিনি মেনোকাকে ভিজিডি কার্ড দেন নি। পূর্ববর্তি ইউএনওর শুপারিশে এনায়েত পাইকের স্ত্রী হিসেবে মেনোকা ভিজিডি কার্ড উত্তোলন করছে। চাল উত্তোলন করে এনায়েতকে অর্ধেক দেয়া হয় আর অর্ধেক মেনোকা নেয়।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদ শেয়ার করুন



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সংবাদদাতা প্রতিনিধি আবশ্যক অনলাইন

apply 




জরুরি হটলাইন

ক্যালেন্ডার

অক্টোবর 2019
সোম বুধ বৃহ. শু. শনি রবি
« সেপ্টে.    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  



© All rights reserved © 2017 Uttarancholsylhet.com
 
Design & Developed BY TC Computer
Translate »